সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বানিয়াচংয়ে ছেলের হাতে মা খুন

মখলিছ মিয়া, বানিয়াচং থেকে    শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১     117 ভিউ
বানিয়াচংয়ে ছেলের হাতে মা খুন

বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে বাড়ীর সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ৬৫ বছরের বৃদ্ধা গোলাপ চান বিবি হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর জন্যই বৃদ্ধার ছেলে মোহাম্মদ আলী ফিকল দিয়ে আঘাত করে গর্ভধারীনি মাকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে মোহাম্মদ আলী মাকে হত্যার দায় স্বীকার করে।

 

আদালত পরিদর্শক আনিসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আদালতে মোহাম্মদ আলী জানান, তার চাচাত ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ নিস্পতি করার জন্য বুধবার সকালে বাড়িতে শালিস বৈঠক শুরু হয়। শালিসে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় চাচাতো ভাই কাদিরকে ফাঁসাতে রাগের মাথায় ফিকল দিয়ে মাকে আঘাত করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মা গোলাপ চান মারা যায়। এরপর আমি (মোহাম্মদ আলী) মাকে কাদির গংরা হত্যা করেছে বলে চিৎকার শুরু করি। এ সময় গ্রেফতার এড়াতে কাদির মিয়া ও তার পক্ষের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে তার নানা বাড়ির আত্মীয় মন্নর আলী, সফর আলী, আশিক মিয়ার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে গর্ভধারীনি মাকে ফিকল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে ঘাতক ছেলে মোহাম্মদ আলী। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি বলেন-এঘটনার সাথে আরো কারা জড়িত রয়েছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ তদন্ত করছেন। যেহেতু সংঘর্ষ হয়েছে সেহেতু এ ঘটনার আরো জড়িত থাকতে পারে। তদন্তে যাদেরইকে জড়িত পাওয়া যাবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আদালতের নির্দেশে গতকালই ঘাতক মোহাম্মদ আলীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরের মধ্যে বাড়ির সীমানা, পানি নিস্কাশনের রাস্তাসহ জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে চলছে মামলা মোকদ্দমা। সম্প্রতি বানিয়াচং থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে এ ঘটনাটি নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেন। এর মধ্যে বুধবার সকালে মোহাম্মদ আলী ও তার চাচাত ভাই আব্দুল কাদিরকে নিয়ে এলাকার মুরুব্বীয়ান সামাজিক বিচারে বসেন। বিচারের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে ফিকলের আঘাতে মোহাম্মদ আলীর মা গোলাপ জান বিবি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ অবস্থায় মোহাম্মদ আলী তার মাকে কাদির গংরা হত্যা করেছে বলে শোর চিৎকার শুরু করে লোকজন নিয়ে কাদির গংদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং-সার্কেল) পলাশ কুমার রঞ্জন দে, বানিয়াচং থানার ওসি এমরান হোসেন, ওসি তদন্ত প্রজিত কুমার দাশ, এসআই গৌতম সরকারসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশের কাছে গোলাপ জান বিবি’র ছেলে মোহাম্মদ আলী জানান, কাদির মিয়া গং তার মাকে ফিকল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। অপরদিকে পুলিশকে জানানো হয়, নিহত গোলাপ চান বিবির ছেলে মোহাম্মদ আলী ফিকল দিয়ে আঘাত করে তার মাকে হত্যা করেছে। এসব তথ্য ও নিহতের আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। পরবর্তীতে সেখানে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আব্দুল মালিকের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত টিম গিয়ে দিনভর তদন্ত করে। হত্যার ঘটনায় রহস্য সৃষ্টি হওয়ায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বিকেলে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা। এ সময় পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকারী যারাই হোক পুলিশ তদন্ত করে তা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। শুধু হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না, যারা বাড়িঘর ভাংচুর ও লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল নিহতের লাশের ময়না তদন্ত শেষে নয়া পাতারিয়া গ্রামের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। ঘটনার কু উদঘাটনে নির্ঘুম রাত কাটায় পুলিশ সদস্যরা।

এদিকে গোলাপজান বিবি হত্যার ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করেন বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে রুস্তম আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত ৫জন হচ্ছে- ওই গ্রামের আব্দুল কাদির মিয়া, মহিবুল মিয়া, কালন মিয়া, সুজন মিয়া ও রেনু মিয়া। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই গৌতম সরকারকে। এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমরান হোসাইন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন গোলাপজান বিবির ছেলে মোহাম্মদ আলী। স্বীকারোক্তিতে সে উল্লেখ করেছে তার ফিকলের আঘাতেই তার মা গোলাপজান বিবি মারা গিয়েছে।

 

এ ঘটনার পিছনে আরো কু রয়েছে কি না তা তদন্ত করছে পুলিশ। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে মোহাম্মদ আলীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেই মা হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয় মোহাম্মদ আলী। তিনি আরও জানান, আব্দুল কাদির এর বাড়ীঘর লুটপাটের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে আরো কারা জড়িত এবং কাদের প্ররোচনায় মোহাম্মদ আলী তার মাকে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:০৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ মে ২০২১

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com