বুধবার ১৭ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর বৌলাই নদী খনন নিয়ে সংশয় এলাকাবাসীর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২০     102 ভিউ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর বৌলাই নদী খনন নিয়ে সংশয় এলাকাবাসীর

আলম সাব্বির তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর গুরুত্ব পুর্ণ বৌলাই নদী খননের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা বাসী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পুরণ ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ ইঞ্জিঃ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের আন্তরিকতায় সরকার গণমানুষের দাবি পূরণে তাহিরপুরে বিভিন্ন ব্রিজ কালভার্টও নদ-নদী খননেকোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।কিন্তু সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে বৌলাই খননে বিলম্বিত হওয়ার মুল কারন বলে জানিয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত নদী খনন না হলে আগামী বোরো মৌসুমেও শনি ও মাটিয়ান হাওর অরক্ষিত থাকবে। হেমন্তে কয়লা-পাথর বহনকারী বাল্কহেড গুলোর জট লাগবে পথে পথে।

প্রায় ২০ বছর ধরে বৌলাই নদী খননের দাবি জানাচ্ছে এ এলাকার মানুষ। এ দাবি পূরণে তাহিরপুর থানার সামনের অংশ থেকে ভাটিতে আনন্দ নগর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার নদী খনন শুরু হয়েছে গত ৯ মার্চ।এর উজানের ৪ কিলোমিটার ফাজিলপুর পর্যন্ত বিআইডব্লিউটি এ ইতোপূর্বে খনন করেছে।৬দশমিক ৭কিলোমিটার নদী খননের কাজ করছেন রাজধানী ঢাকার ঠিকাদার আলম খান ৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে।

গত ১ ফেব্রুয়ারী এই ঠিকাদারকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও কাজ শুরু করতে বিলম্ব করেন তিনি।৯ ফেব্রুয়ারী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বৌলাই নদীর খনন কাজ পরিদর্শনের জন্য তাহিরপুর আসেন। তাই স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঠিকাদারকে দিয়ে দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা সদরের পাশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে নদী খননের কাজ শুরু করেন লোক দেখানোর মত। ঠিকাদার নদীর তলদেশের ১০ মিটার অংশ খনন করে নদীতেই মাটি রেখে দেন। এই মাটি আবার কয়েক দিনের মধ্যে আবার নদী বক্ষেই চলে যায়।

 

এর আগে বিআইডব্লিউটিএ নদীর উজানের দিকে তলদেশ ২০ মিটার প্রস্থে খনন করে আসায় স্থানীয় ভাবে প্রশ্ন ওঠে ভাটিতে প্রস্থে ১০ মিটার খনন করলে উজানে ২০ মিটার খনন করার প্রয়োজন ছিল কি?।পরে আবার প্রাক্ষালন পরিবর্তন করে তলদেশে ২০ মিটার (প্রস্থ) খননের সিদ্ধান্ত নেয় পাউবো। গত জুন মাসেই নদী খননের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রীকে দেখানোর জন্য দৃশ্যমান সামান্য কাজ করে করোনার দোহাই দিয়ে সবকিছু গুটিয়ে চলে যায় ঠিকাদারের লোকজন। কাজের সময়সীমা জুন মাসে পার হয়ে গেলে সময় বর্ধিত করা হয় নভেম্বর পর্যন্ত। মাস খানেক হলো ছোট একটি মেশিন দিয়ে আবার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তাহিরপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বলেন, মনে হচ্ছে নভেম্বরেও কাজ শেষ হবে না।ভাটির অংশে কাজের ধীরগতির কারণে খনন হওয়া উজানের অংশ ভরাট হতে পারে। তাতে সরকারের টাকা গচ্ছা যাবে, নদী খননের কিছুই হচ্ছে না।

স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী সেলিম আখঞ্জি বলেন, এই নদী খননে ধীরগতিতে মানুষ হতাশ।গত এক মাসে ছোট একটি মেশিন নদীর ২০-৩০ হাত খনন করেছে। আগামী বোরো মৌসুমের আগে নদী খনন শেষ হবে না, হাওর ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।ঠিকাদার আলম খানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, বৌলাই নদী খননের কাজ ড্রেজার ও এক্সক্যাভেটর দিয়ে করার কথা। মার্চে কাজ শুরু হলেও (কভিড-১৯-) এর কারণে লোকজন কর্মস্থলে না থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখন নদীতে অতিরিক্ত পানি রয়েছে , স্রোতের বেগ আছে, পানি কমলেই কাজের গতি বাড়বে। বর্ধিত সময় সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে আশা করি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com