শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রক্ষণাবেক্ষণ ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের প্রায় শতকোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

আলম সাব্বির তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:   শনিবার, ০৩ আগস্ট ২০১৯     227 ভিউ
রক্ষণাবেক্ষণ ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের প্রায় শতকোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

ফাইল ছবি

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে সীমান্ত ঘেষে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট সীমান্তে স্থাাপিত বিসিআইসি’র একমাত্র চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে খনিজ প্রকল্পটি স্থাাপন করে কার্যক্রম শুরু করে বিসিআইসি। শুরু থেকে একাধারে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত খনিজ প্রকল্পটি লাভের মুখ দেখে। পরবর্তীতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর পরিচালনায় ক্রমে ক্রমে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় প্রকল্পটি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে বিসিআইসি খনিজ প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। উত্তোলন বন্ধ করে ১৯৯৬ সাল থেকে ভারত হতে চুনাপাথর আমদানির মাধ্যমে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এটিকে আমদানি কেন্দ্রে রুপান্তরিত করে। কিন্তু তাতেও লাভের মুখ দেখেনি।

পরবর্তীতে খনিজ প্রকল্পের ৩১ জন শ্রমিক কর্মচারীদের বিসিআইসির ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে স্থাানান্তর করে। খনিজ প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার পর প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্র-সামগ্রী পরিত্যক্ত অবস্থাায় পড়ে থাকে সেখানেই। আর এ সকল যন্ত্র-সামগ্রী রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশুনার জন্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব লোকবল থাকলেও খনিজ প্রকল্প বন্ধের পর থেকে এক যুগের অধিক সময়কাল ধরে প্রকল্প এলাকায় ১৬টি চুরির ঘটনায় প্রায় ২০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি খোয়া গেছে এমনটাই জানালেন স্থাানীয়রা।

জানা যায়, খোয়া যাওয়া যন্ত্রপাতিগুলো হলো, বৈদ্যুতিক তার, মোটর, রেললাইন, এক্সকেভেটরসহ অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি। একদিকে চুরি অন্যদিকে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রসামগ্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর তীরে নির্মাণ করা হয় আসাম ও বাংলা সিমেন্ট কোম্পানি। আর তা নির্মাণের পর ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে এর উৎপাদন চাহিদা পূরণ করা হতো। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এই সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন চালিয়ে যেতে নিজস্ব চুনাপাথরের প্রয়োজন দেখা দেয়।তারপর কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে তাহিরপুর সীমান্তবর্তী টেকেরঘাটের ৩২৭ একর ভূমির উপর জরিপ চালিয়ে ১৯৬০ সালে চুনাপাথরের খনির সন্ধান পায়। সেখান থেকেই চুনাপাথর উত্তোলন করে আসাম-বাংলা সিমেন্ট কোম্পানি (ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি) সিমেন্ট উৎপাদন অব্যাহত রাখে। তখনকার জরিপের সময় টেকেরঘাটের ৫টি কোয়ারিতে ১৩ কোটি ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন চুনাপাথরের মজুদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের ৩২৭ একর ভূমির মধ্যে ট্যাকের ঘাট ও ভাঙ্গারঘাটে সাইজিং এলাকার আয়তন ছিল যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৬৯ একর এবং ৯২ দশমিক ২৫ একর। তখনকার সময়ে ভাঙ্গারঘাটের খনিজ প্রকল্প হতে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন চুনাপাথর উত্তোলনের পর প্রকল্প কোয়ারির গভীরতা ৩৫ মিটারের বেশি হয়। উত্তোলন ব্যয় সীমাহীন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গারঘাট খনিজ প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে ৫টি কোয়ারির মধ্যে ৩ টি কোয়ারি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ২টির অস্তিত্ব আছে। অথচ পরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করলে প্রতিবছর এই ৫টি কোয়ারি থেকে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন চুনাপাথর সংগ্রহ করা যেত, যা মাটির নিচে এখনো মজুদ আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চুনাপাথরের প্রয়োজন।

অনুসন্ধ্যানে আরো জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পেট্রোলিয়াম খনিজ সম্পদ বিভাগ ১৯৮৪ সালে প্রকল্পটি বিসিআইসির কাছে হস্তান্তর করে এবং ৫ বছর পর বিসিআইসির বোর্ড সভায় টেকেরঘাট খনি প্রকল্পকে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে একত্রিত করে। প্রকল্পটিকে আমদানি কেন্দ্রে রুপান্তরিত করে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে সম্মিলিতভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপরও এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কারণে এ প্রকল্পের লোকসানের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যায়। ফলে দেশের একমাত্র চুনাপাথর খনি প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যায়। অপরদিকে অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে শতকোটি টাকার পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি।

এ প্রসঙ্গে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এমডি) হাসনাত আহমদ চৌধুরী যন্ত্রপাতি চুরি হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পরিত্যক্ত প্রকল্প এলাকায় একজন সিনিয়র অফিসারসহ ১২ জন আনসার সদস্য রয়েছেন। ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ ২০ বছর মেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে মেঘালয়ের কোমরা খনি থেকে পাথর আমদানি করা হচ্ছে। অপরদিকে টেকেরঘাট এলাকায় একটি ক্লিংকার ফ্যাক্টরি স্থাাপনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে ইতোপূর্বে একটি পত্র পাঠানো হয়েছে। যা বিবেচনাধীন রয়েছে।জানা যায়, খোয়া যাওয়া যন্ত্রপাতিগুলো হলো, বৈদ্যুতিক তার, মোটর, রেললাইন, এসকেভেটর সহ অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৩ আগস্ট ২০১৯

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com