শুক্রবার ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ধর্মপাশায়  সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কিস্তি আদায়

সোমবার, ০৮ জুন ২০২০     107 ভিউ
ধর্মপাশায়  সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কিস্তি আদায়
সাইফ উল্লাহ, মুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়  বিভিন্ন সংস্থা (এনজিও) তাদের কিস্তির টাকা আদায় করছে। সংস্থার কর্মকর্তারা ফোন দিয়ে চাপ সৃষ্টি করাসহ কর্মচারী পাঠিয়ে আদায় করছেন টাকা। এ কাজে বড় বড় সংস্থাসহ ধর্মপাশায়  ক্ষুদ্র  ঋণ  সংস্থাগুলোও রয়েছে। তবে সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা কোথাও চাপ সৃষ্টি করছেন না। তবে কেউ ইচ্ছাকৃত কিস্তির টাকা দিলে তা নিচ্ছেন।
জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলায় আশা, ব্র্যাক, ডিএসকে, টিএমএসএস,  গ্রামীণ ব্যাংক,  উর্দীপন, পল্লীবন্ধুসহ বিভিন্ন সংস্থা কিস্তির টাকা আদায় করছে। তবে কৌশলগতভাবে ভিন্নতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পূর্বে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে টাকা নিলেও এখন ফোন করে অথবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে  আদায় করছে টাকা।
নওধার গ্রামের আমেনা বেগম জানান, তিনি আশা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন সেখানকার কর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা না দিলে ব্যবস্থা নেবেন।
পাইকুরাটি গ্রামের উজ্জনারা  জানান, তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। মাঠকর্মীরা বলে গেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে তাঁকে টাকা দিতে হবে।
মাটিকাটা  গ্রামের  সাহারা বেগম   জানান, তিনি আশা থেকে ঋণ নিয়েছেন। এ সপ্তাহে কিস্তি দিতে বাধ্য করেছে তারা।
মাটিকাটা এলাকার পারভীন আক্তার জানান, তিনি উর্দীপন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। সেখানকার কর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা না দিলে ব্যবস্থা নেবেন।
বৌলাম গ্রামের মিনার  বেগম জানান, ডিএসকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। সেখানকার কর্মকর্তারা হুমকি দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা না দিলে ব্যবস্থা নেবেন।
মাটিকাটা গ্রামের রিকশাচালক মোস্তাহিদ মিয়া বলেন,  এই ক্রান্তিলগ্নেও তাঁকে প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ১হাজার টাকা করে এনজিওর কিস্তি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আয় নাই। তাই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত এনজিওর কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করব, তা বুঝতে পারছি না।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত কিস্তি নিচ্ছে সংস্থাগুলো। তবে সংস্থার প্রতিনিধিরাও স্বীকার করেন, সরকার জুন মাস পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা আপাতত কাউকে কিস্তির জন্য কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করছেন না। অফিস খোলা থাকায় কেউ কিস্তি দিতে এলে তা গ্রহণ করছেন।
ধর্মপাশা  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনতাছির হাসান বলেন, আগামী ৩০জুন পর্যন্ত এনজিওগুলোর কিস্তির টাকা আদায় না করার জন্য অনুরোধ করেছে।নির্ধারিত তারিখের আগেই মাঠ পর্যায়ে কিস্তি আদায় কিংবা চাপ প্রয়োগের বিষয়টি আমার জানা নাই। খোঁজ খবর মিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.আব্দুল আহাদ জানান,  জুন পর্যন্ত সংস্থার কিস্তি তুলে নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এর পরও যদি কেউ কিস্তির টাকা তোলে, অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৩৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৮ জুন ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com