রবিবার ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

তাহিরপুরে অনিয়ম-দুর্নীতির বরপুত্র ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাস

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০     103 ভিউ
তাহিরপুরে অনিয়ম-দুর্নীতির বরপুত্র ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাস

আলম সাব্বির, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশ। তিনি অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে সরকারী নিদর্শনাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নামজারি ডিসি আর দাখিলারও খাজনার জন্য অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। ভুমি উন্নয়ন করের রসিদ সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও রশিদে লেখা হয় হয় সরকারি হিসাবের টাকা। এভাবেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেনঐ কর্মকর্তা। ফলে জন সম্পৃক্ত অতি গুরুত্বপুর্ন এই খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে মনে করেন এলাকা বাসী।

বিভিন্ন অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির খাজনা নিচ্ছেন ১৬ হাজার টাকা রশিদ দিচ্ছেন ২ হাজার টাকার। প্রায় ৫০টিরও বেশি রশিদে রয়েছে সীমাহীন গড়মিল।এভাবে প্রতিদিনেই দুর্নীতি করে প্রতিকারবিহিন নিরবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) রঞ্জন কুমার দাস।  অনিয়মের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদকর্মি জেনেও দুর্ব্যবহার করেন তিনি। এসব দুর্ব্যবহারের বিষয়ে সংবাদকর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেও অবহিত করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির কর দিতে অফিসের সামনে ও ভিতরে প্রতিদিন ভিড় করছেন সেবা প্রার্থীরা। কিন্তু খাজনা আদায়, জমি রেজিস্ট্রেশন,নামজারি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণে চেক জালিয়াতি, নীতি মালা ভঙ্গ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া, জলমহাল ইজারা, জমির মূল্যের চেয়ে বেশী কর দাবী করা, সময় মত অফিস না করা, আজ হবে না কাল এসব বলা এছাড়াও ঐ কর্মকর্তার চাহিদা মত টাকা না দিলেই চরম দূব্যবহার করে থাকেন বলে জানান এলাকাবাসীও দুর দুরান্ত থেকে আসা সেবা গ্রহিতারা।

উপজেলার সীমান্তবর্তী রঙ্গাছড়া পশ্চিম এলাকা থেকে আসা আক্তার আলী (৬৮) নামে এক ভুক্তভোগী।তিনি বলেন নিজের ৬০শতাংশ জমির কর পরিশোধ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে। ঘুষের টাকা না দেয়ায় কাজ হচ্ছে না। ওই ভুক্তভোগীর কথায় ‘ঠিক ঠিক’ বলে আওয়াজ তুলে সায় দিচ্ছিলেন নামজারি ও খাজনা দিতে আসা অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীরাও।

আরেক ভুক্তভোগী রঙ্গাছড়া বাসিন্দা আক্তার আলী বলেন আমি কিছু দিন আগে আমার পৈতৃক ৬০শতাংশ জমির কর পরিশোধ করতে ভূমি অফিসে যাই।আমার কাছে ৭৪ হাজার টাকা কর দাবি করেন। মনে দুঃখ নিয়ে ফিরে আসি। পরদিন আবারো আমার জমির আংশিক খাজনা দিতে গেলে তিনি খাজনা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এবং খাজনা বাবদ আগের দিনের ৭৪ হাজার টাকার পরিবর্তে ১লাখ টাকা দাবি করেন।এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তহশিল দার পাগলের মত আচরন করে বলেন আইনে খাজনা বাবদ ১লাখ টাকা আসে কম হবে কেন।

চিকার কান্দি মৌজার জমির মালিক নবী হোসেন।তিনি বলেন,আমার ০.২৪ একর জমির খাজনা পরিশোধ করতে বেশকিছু দিন ধইরা তহসিলদারকে কইতাছি। তিনি ৮হাজার টাকা চাইছেন। আমার পরিচিত একজন’রে দিয়া সুপারিশ কইরা ৫ হাজার টাকায় রাজি করছি। পুরো টাকা দিলেও রশিদে লিখছে মাত্র ৬’শত ১০টাকা ।

এই বিষয়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশ বলেন, আমি কোন অনিয়ম করি নি।অনিয়ম না করে থাকলে একজনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে দু হাজার টাকার রশিদ দিলেন কেন এমন প্রশ্নসহ অন্যান্য অনিয়মের কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com