শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্ম অবনতি সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

সোমবার, ২৯ জুন ২০২০     60 ভিউ
ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্ম অবনতি  সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বিজয় রায়, ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ভারি বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয়েছে গোটা উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে অমানবিক হয়ে পড়েছে উপজেলার ৪ লক্ষাথিক মানুষ। শহরের উচুঁ সড়কের উভয় পাশে বসেছে মাছ-মাংসের দোকান, শাক-সবজীসহ কাচা বাজার।

বন্যায় তলিয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও মৎস্য খামার। বহু কাচা-পাকা ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকান-পাঠ ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি উঠে গেছে। উপজেলা পরিষদ ও পৌর কার্যালয়ের আঙ্গিনায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় শহরের অধিকাংশ দোকান ও ব্যাসায়ী প্রতিষ্ঠািন বন্ধ রয়েছে। শহরের উপর দিয়ে চলাচল করছে চোট-ছোট নৌকা। সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভাড়ি বর্ষনের কারনে পৌর শহরসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামপুর, নোয়ারাই, কালারুকা ইউনিয়ন ও ছাতক পৌরসভার প্রায় সব এলাকাই প্লাবিত হয়েছে। ছাতক-গোন্দিগঞ্জ-সিলেট, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-দোয়ারা সড়কের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে।

শনিবার রাত থেকে উপজেলার সাথে জেলা সদরসহ দেশের সকল অঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের কারনে এখানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় এখানে প্রায় ১৩০ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ১৭৬ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার এবং পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ১৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর বিভিন্ন ঘাট দিয়ে ঝুকি নিয়ে ফেরী পারাপার চলছে। ইতিমধ্যে উপজেলা সদরের সাথে ১৩ টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার্তদের জন্য সরকারীভাবে তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বন্যা দূর্গত মানুষদের নোয়ারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাতিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য খামার, পোল্ট্রি ফার্ম, ও শাখ সবজীর বাগান বন্যার পানিতে তলিয়ে দিয়ে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে হাজী রইছ আলীর মৎস্য খামারের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা, কামাল চৌধুরীর মৎস্য খামারের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা, মিজানুর রহমানের খামারের ১০ লক্ষ টাকা ও হাফিজুর রহমানের খামারের প্রায় ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া নোয়ারাই ইউনিয়নের পাটিবাগ এলাকায় মিজানুর রহমানের খামার বাড়ী থেকে আড়াই লক্ষ টাকা মূল্যের প্রায় ৩৫০ মন ধান সহ মালামাল বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এখানে ভয়াবহ বন্যার আশংকা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম কবির তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা কথা বলে জানান, বন্যার্তদেও জন্য আরো কটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মেডিকেল টিম গঠন সহ সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:৩২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(251 ভিউ)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com