রবিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, বণ্যপাণীর বিচরণে মুখরিত !

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০     74 ভিউ
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, বণ্যপাণীর বিচরণে মুখরিত !

মোঃ আব্দুর রকিব, হবিগঞ্জ থেকে :: বৈশ্বিক আতঙ্ক করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে স্তব্ধ হয়ে আছে গোটা বিশ্ব। পৃখিবীতে ত্রাস সৃষ্টিকারী ক্ষমতাধর দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে এ ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতায়। দেশে  এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধের প্রয়োজনে সরকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ জারি করেছে। জারিকৃত নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণপরিবহনসহ দোকানপাট মার্কেট ইত্যাদি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। এদিকে পর্যটকের পদচারণা না থাকায় হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বন্যপ্রাণীর স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

পর্যটকের আনাগোনা না থাকায় এখন উদ্যানের সর্বত্র প্রানীদের বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের আকৃষ্ট করার জন্য নির্মিত স্থানগুলো এখন দৃষ্টিনন্দন পশু-পাখির দখলে চলে গেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এ উদ্যানে বসবাসরত পশু-পাখিরা এমন একটি সময়ের অপেক্ষা করছিল যুগযুগ ধরে। কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা বিচরণ করছে নিরবে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানটি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের  প্রাকৃতিক উদ্যানগুলোর একটি। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ/সংশোধন আইনের বলে ২৪৩ হেক্টর এলাকার ভূমি নিয়ে ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে “সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান” নামে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই উদ্যান অভ্যান্তরে সাতটি পাহাড়ি ছড়া আছে, বিধায় এর নামকরণ হয় সাতছড়ি। (যার অর্থ: সাতটি ছড়ার সহাবস্থান)। সাতছড়ি অরণ্যের পূর্ব নাম ছিলো “রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট”। এ উদ্যানের আশপাশে ৯টি চা বাগান রয়েছে।  এর পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের অবস্থান।

তথ্যে জানা যায়, এ উদ্যানের অভ্যন্তরে টিপরা পাড়ায় একটি পাহাড়ী উপজাতির ২৪টি পরিবার বংশানুক্রমিক বসবাস করে আসছে এখানে। ২শটিরও বেশি প্রজাতির গাছপালা সমৃদ্ধ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। এর মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধাজারুল, আওয়াল, মালেকাস, ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, বাঁশ, বেত-গাছ ইত্যাদির পাশাপাশি নাম না জানা অসংখ্য বৃক্ষরাজী দেখতে পাওয়া যায় এ অরণ্যে।

এ বনে ১৯৭ প্রজাতির বৈচিত্রময় জীব-জন্তুর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর প্রাণি রয়েছে। আরো আছে প্রায় ১৫০-২০০ প্রজাতির পাখি। এ অরন্যটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাখিদের একটি অভয়াশ্রম। এ বনে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর (Macaque), মেছোবাঘ, মায়া হরিণ ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন,  বর্তমান করোনাভাইরাস প্রভাবের ফলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মানুষের আনাগোনা না থাকায়, পশুপাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এ উদ্যান এতদিন নামেমাত্র অভয়ারণ্য ছিল, এখন এসব বিচিত্র প্রাণীদের কলকাকলীতে বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বাস্তব রূপ ধারণ করেছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com