রবিবার ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শস্যভান্ডার খ্যাত কমলগঞ্জে হিমাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবী

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০     102 ভিউ
শস্যভান্ডার খ্যাত কমলগঞ্জে হিমাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবী

শাব্বির এলাহী, কমলগঞ্জঃ শস্য ভান্ডার খ্যাত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় হিমাগার স্থাপন এখন সময়ের দাবী। কৃষকরা খাদ্য যোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলতি মৌসুমে টমেটোর ব্যাপক চাষাবাদ এবং বাম্পার ফলনও হয়েছে। টমেটো, বেগুন, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ শাকসবজির চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। মৌসুম শুরু হতে না হতেই ফসলের মাঠ জুড়ে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, করলা, বরবটি, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, লাউ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, শশাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ চলছে।

তবে এসব সবজি সংরক্ষণের জন্য কোন হিমাগার না থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ সবজী তোলার সাথে সাথেই বাধ্য হয়ে ‘পানির দরে’ বিক্রি করতে হবে এসব উৎপাদিত ফসল। না হলে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। আদমপুরের কৃষক আব্দুল মতিন, সাদেক হোসেন জোয়াদআলী বলেন, স্থানীয় বেপারীরা কমলগঞ্জ থেকে স্বল্প দামে কৃষকের শস্য কিনে ট্রাকে করে দেশের অন্যান্য এলাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। তবে এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে না। কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে এখানে একটি হিমাগার স্থাপন করা জরুরি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জে বছর জুড়ে কোনো না কোনো সবজি চাষ হয়। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। গত বছর মোট সবজির চাষাবাদ হয়েছে ২২৮০ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৬৪হেক্টর জমিতে এবং গ্রাফটিং টমেটো চাষ হয়েছে ৯০ হেক্টর জমিতে।তবে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে কেউ কেউ বারো মাসও টমেটো চাষাবাদ করেন। এছাড়াও বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, শিম, মূলাসহ ও শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে।

জেলার মধ্যে কৃষি উৎপাদনে এ উপজেলা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে অধিক পরিমাণে শাক-সবজি চাষাবাদ হয়।তবে সময় মতো কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেয়ে নামে মাত্র মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন।চাষীরা বলেন, যারা টমেটো বাজারজাত করছেন তারা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া কয়েকদিন পর যারা টমেটো বাজারজাত করবেন তারা সেভাবে লাভবান হতে পারবেন না। গাছে গাছে এখন টমেটো, বেগুন ধরতে শুরু করেছে। সেগুলো বাজারে তোলার পর দাম একেবারেই কমে যায়। এই উপজেলায় একটি হিমাগার থাকলে দাম কমে গেলে সেখানে রেখেও পরে বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল।

এ উপজেলায় কৃষকদের সুবিধার্থে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এ ব্যাপারে কারো নজর নেই। খাদ্য যোগানে এই অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে সংরক্ষণাগার দ্রুত স্থাপনে সরকারের নিকট কৃষকরা জোর দাবি জানান।

উপজেলার আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, প্রতিবছর শুধু আদমপুর ইউনিয়ন থেকেই চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার টমেটোসহ নানা ফল-ফসলাদি অন্যান্য জেলায় রফতানি হয়। আদমপুরে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে কৃষকরা সুবিধা পাবেন। তারা সবজি উৎপাদনে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, সারা বছরই এখানে বিভিন্ন সবজির চাষ হচ্ছে।এখানে একটি হিমাগার স্থাপন হলে কৃষকেরা যেমন তাদের উৎপাদিত ফসল নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন, তেমনি তারা তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্যও পাবেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় গ্রাফটিং টমেটো চাষের শুরু কিন্ত কমলগঞ্জেই। টমেটোসহ রবিশস্যের জন্য কমলগঞ্জ ব্যাপক পরিচিত।এসব সবজির ভালো চাষাবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। তবে এখানে একটি হিমাগার বা সংরক্ষণাগার থাকলে সেটি কৃষকদের জন্য আরও ভালো হতো এবং উদৃত্ত সবজি ভালো দামে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হতো।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলার প্রান্তিক চাষীরাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কমলগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপনের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে গুরুত্বসহকারে কথা বলেছি।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এ প্রতিবেদককে বলেন, মৌলভীবাজর জেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে কোন উপজেলায় সেটি স্থাপন করা হবে তা এখনো সিদ্বান্ত হয়নি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৪৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com