রবিবার ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মোহাম্মদ ইলিয়াছ: কেউ ভুলে না, কেউ ভুলে

সোমবার, ১৬ নভেম্বর ২০২০     117 ভিউ
মোহাম্মদ ইলিয়াছ: কেউ ভুলে না, কেউ ভুলে

শাব্বির এলাহী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মোহাম্মদ ইলিয়াছ, কেউ ভুলে না, কেউ ভুলে। তবু নভেম্বর এলেই বেশি করে মনে পড়ে তাঁর কথা।১৯৮৭ সালের এ মাসের ২১ তারিখে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারের সহযোদ্ধা বায়ন্নোর ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

রাষ্ট্রভাষা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ও সংগঠক আওয়ামীলীগের সাবেক এই প্রেসিডিয়াম সদস্য তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রশ্নাতিরিক্ত সৎ, নির্লোভ ও ত্যাগী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছাত্র জীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ১৯২৯ সালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার এক নিভৃত পল্লী খুশালপুরে জন্মগ্রহণ করে বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় সম্পৃক্ত থেকে গোটা জাতির উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

মোঃ তাহির ও জুবেদা খাতুনের আট সন্তানের মধ্যে সবার বড় ইলু মিয়া অর্থাৎ মোহাম্মদ ইলিয়াছ তৎকালীন কমলগঞ্জ এম.ই. স্কুলে নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার পর ১৯৪৭ সালে মৌলভীবাজার গর্ভণমেন্ট স্কুল থেকে মেট্রিক(এসএসসি) পরীক্ষায় ১ম বিভাগে ৪র্থ স্থান লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ থেকে ১ম বিভাগে ৬ষ্ঠ স্থানে আইএসসিতে উর্ত্তীণ হন।তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে অনার্স নিয়ে ১ম বিভাগে এমএসসি পাশ করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। সে সময় থেকেই চা শ্রমিকসহ মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে শহীদ রফিক, বরকত, জব্বারের সহযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণ আন্দোলনে সক্রিয় সাহসী ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুর আহবানে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য(এমএনএ) নির্বাচিত হন। পরে একাধিকবার কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে সারাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি যখন সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন ঠিক সে বছরের নভেম্বর মাসের এদিন রাত পৌণে দশটায় ঢাকা এমপি হোস্টেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পূত্র ও পাঁচ কন্যা ছাড়া সহায় সম্পদ কিছুই রেখে যেতে পারেন নি।আজ কেউ ভূলে, কেউ ভূলেনি ক্ষণ জন্মা এ মহা পুরুষকে। যদিও স্থানীয় আওয়ামীলীগের কোন কোন সভা-সমাবেশে নেতাকর্মীরা তাঁকে মূহুর্তকাল স্মরণ করে। আমরা যদি একজন গুণীজনকে ইচ্ছা অনিচ্ছায় ভূলে যেতে চাই তবে একদিন ভূলেই যাবো আর এভাবে হয়তো বাঙালীর স্বাধিকার আদায়ের এ অগ্রজ পথিক ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবেন। এভাবেই আমরা নিজেদের অস্তিত্বকেই হয়তো কোনদিন হারিয়ে ফেলবো। তবু জয়তু মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:২৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ নভেম্বর ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com