শনিবার ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

হবিগঞ্জের সাতছড়ি, গ্রীনল্যান্ড পার্ক, রেমা-কালেঙ্গা পর্যটকদের অপেক্ষায় 

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০     153 ভিউ
হবিগঞ্জের সাতছড়ি, গ্রীনল্যান্ড পার্ক, রেমা-কালেঙ্গা পর্যটকদের অপেক্ষায় 

কাজী মাহমুদুল হক সুজন।।হবিগঞ্জ জেলার এক পাশে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত চা বাগান। আছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, পিকনিক স্পট নামে খ্যাত গ্রীনল্যান্ড পার্ক ও কালেঙ্গা অভয়ারণ্য। চা বাগানের মধ্যে আছে পাহাড়ি ছড়া। এসব মনোরম স্থান পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ছুটিছাটা বা ঈদ-পার্বণে মানুষ ছুটে আসত এসব মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পটগুলোতে।

তবে করোনার জন্য এবারের পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতেও হবিগঞ্জের বৃষ্টিস্নাত সাতছড়ি, কালেঙ্গা ও প্রাকৃতিক ভাবে সাজানো গ্রীনল্যান্ড পার্ক ফাঁকা ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনায় এসব স্থানে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। প্রকৃতির ছোঁয়ায় প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দটা উপভোগ করা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে পর্যটকদের।

অথচ অন্যান্যবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব পর্যটন স্থানগুলোয় পর্যটকদের ভরপুর উপস্থিতি থাকে। বর্তমানে পর্যটক সমাগম বন্ধে কর্তৃপক্ষ যেমনি সজাগ, তেমনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। তবে যাই হোক সাতছড়ি ও কালেঙ্গা পর্যটকের অপেক্ষায় রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সৌন্দর্যমন্ডিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গার অভয়ারণ্য ও চুনারুঘাটে বেসরকারী ভাবে প্রতিষ্টিত গ্রীনল্যান্নেড পার্ক ভেতরে এঁকেবেঁকে চলেছে বালুময় কয়েকটি ছড়া ও লেক। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের উন্নয়নে বন বিভাগ, প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের যেকোন স্থান থেকে মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট উপজেলায় আসলেই এসব দর্শনীয় স্তানের কাছে  এসে গেলেন।

সাতছড়ি বন্যপ্রাণি সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, সাতছড়ি উদ্যানের ইতিহাস জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯১২ সালে। ওই বছর প্রায় ১০ হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমি নিয়ে গঠিত রঘুনন্দন হিলস্ রিজার্ভই কালের পরিক্রমায় আজকের উদ্যান। অবশ্য জাতীয় উদ্যান হওয়ার ইতিহাস বেশিদিনের নয়।

২০০৫ সালে ৬০০ একর জমিতে জাতীয় উদ্যান করা হয়। এ উদ্যানের ভেতরে রয়েছে অন্তত ২৪টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস।

রয়েছে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, শিয়াল, কুলু বানর, মেছো বাঘ, মায়া হরিণের বিচরণ। সরীসৃপের মধ্যে আছে কয়েক জাতের সাপ। কাও ধনেশ, বন মোরগ, লাল মাথা ট্রগন, কাঠঠোকরা, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলদে পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাসস্থল এই উদ্যান।

এসব থাকায় সাতছড়িতে দিন দিন পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে উদ্যান বন্ধ আছে। তবে উদ্যানের নিরাপত্তায় আমরা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।

কালেঙ্গার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন জানান, রেমা-কালেঙ্গার অভয়ারণ্য মূলত তরফ পাহাড় সংরক্ষিত বনভূমির একটি অংশ। যা দেশের প্রাকৃতিক পার্বত্য বনভূমির মধ্যে সর্ববৃহৎ। অভয়ারণ্যটি এ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ও রানীগাও ইউনিয়নে অবস্থিত। এ বনাঞ্চলটি ঢাকা থেকে আনুমানিক ১৪০ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে এবং সিলেট থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থিত। বনাঞ্চলটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর বিস্তৃত।

চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নে বেসরকারী ভাবে নির্মিত গ্রীনল্যান্ড পার্কটি মাত্র কয়েক বছরেই পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পার্কটিতে রয়েছে তিনটি লেক,ঝুলন্ত সেতু, বিভিন্ন প্রজাতির ২০ হাজার গাছগাছালি, পর্যটকরা থাকা খাওয়ার রয়েছে সুবিধা,পাহাড়ে রয়েছে সুদৃষ্ট বসার স্তান।

পিকনিক স্পট হিসাবে খ্যাত গ্রীনল্যান্ড পার্কে এক সাথে কয়েক হাজার পর্যটক পিকনিক কিংবা ভ্রমন করতে পারবেন।রয়েছে নিরাপত্তা ব্যাবস্তা। অপেক্ষাকৃত দুর্গম স্থানে অবস্থিত বলে এই সমৃদ্ধ মিশ্র চিরহরিৎ বনটি এখনও টিকে আছে। অভয়ারণ্যটির আশেপাশে রয়েছে তিনটি চা-বাগান। এটি বিভিন্ন বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও পশুপাখির আবাসস্থল এবং বিশেষ করে পাখি দর্শনে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান। সব মিলিয়েে পর্যটন কেন্দ্র জেলা হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে হবিগঞ্জ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com