শনিবার ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রিয় মানুষকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন বানিয়াচঙ্গের সুধিজন

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ 86 ভিউ
প্রিয় মানুষকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন বানিয়াচঙ্গের সুধিজন

মখলিছ মিয়া,বানিয়াচং থেকে ॥ স্যার ফজলে হাসান আবেদ এর মৃত্যুতে জন্মস্থান বানিয়াচঙ্গে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় মানুষকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন বানিয়াচঙ্গের সুধীজন।

তাদের কাছে কেমন ছিলেন স্যার ফজলে হাসান আবেদ এ নিয়ে কথা বলেন সাবেক উপ-সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) ও লেখক এবং গবেষক শেখ ফজলে এলাহী- বানিয়াচঙ্গে হাওরপাড়ের খেটে খাওয়া মানুষ যখন এক সময় খড় দিয়ে ঘরের ছাউনী দিত, স্যার ফজলে হাসান আবেদ সেই সকল মানুষদের খড়ের বদলে টিন দিয়ে ঘর বানিয়ে দিয়েছিলেন, বানিয়াচঙ্গে এখন আর কেউ খড় দিয়ে ঘরের ছাউনী দেয়নি, টিন দিয়ে ঘরের ছাউনী দেয়ার প্রথা তিনিই প্রথম চালুন করে ছিলেন।

এক সময় গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক হারে কলেরা দেখা দেয়, ওই সকল এলাকায় বিনামূল্যে তিনি ব্র্যাকের কর্মীদের দিয়ে বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাওয়ার স্যালেইন বিতরণ করে পুরোপুরি এ ব্যাধি দূর করতে সক্ষম হন। এছাড়া বানিয়াচঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রেও তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। ব্র্যাক স্কুলের মাধ্যমে হাজারো দরিদ্র ছেলে মেয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। হাওর অঞ্চলে যেখানে স্কুলের ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে তিনি বড় নৌকার মাধ্যমে দরিদ্র ছেলে মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন,এটা একমাত্র উনার ধারাই সম্ভব হয়েছে। এই মহান মানুষের মৃত্যুতে বানিয়াচংবাসী তথা বাংলাদেশের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমির হোসেন মাস্টার- স্যার ফজলে হাসান আবেদ বানিয়াচংয়ের কৃতি সন্তান। উনার মৃত্যুতে বানিয়াচং তথা দেশ একজন স্বনামধন্য মানুষকে হারাল। স্যার ফজলে হাসান ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি সব সময় দেশের কল্যাণের জন্য চিন্তা করতেন। কিভাবে দেশের দরিদ্র মানুষকে দারিদ্রতার হাত থেকে উত্তোরণ করা যায় এটা নিয়ে তিনি তার প্রতিষ্টিত ব্র্যাকের মাধ্যমে কাজ করে গেছেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ ছিলেন বানিয়াচঙ্গের অহংকার। বানিয়াচঙ্গের কোন কাজ নিয়ে উনার কাছে গেলে তিনি কাউকে বিমুখ করতেন না, হাসিমুখে সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য কাজ করেছেন। এজন্য তিনি আজীবন আমাদের স্মৃতিতে চির অম্লান হয়ে থাকবেন।

সাবেক চেয়ারম্যার বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া- স্যার ফজলে হাসান আবেদ’র সাথে অনেক স্মৃতি রয়েছে। মাকুলী থেকে ব্র্যাকের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়। তখনকার সময় পোল্ট্রি, ডেইরী এবং কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য আমাকে নির্বাচন করা হয়। আমিসহ আমরা প্রায় ২৪ জনকে কলকাতা চব্বিশ পরগনায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। প্রশিক্ষনের শেষে তিনি নিজে স্বস্ত্রীক কলকাতায় আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। এসময় তিনি সেখানে আমাদের উদ্দেশ্যে একটি শিক্ষনীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন। উনার সেই বক্তব্যের প্রতিচ্ছবি এখনো চোখের সামনে ভেসে উঠে।

তিনি তখন অনুভব করেছিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এলক্ষ্যে তিনি প্রথমেই ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্র্যাকের কার্যক্রম শুরু করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তখনকার সময় হাজার হাজার মানুষকে তিনি সহায়তা দিয়েছেন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র দরিদ্র মানুষদের নিয়েই চিন্তা করে গেছেন। আজ ব্র্যাক বিশ্বের  মধ্যে একটি বৃহৎ এনজিও হিসেবে প্রতিষ্টিত হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে উনার সততা,পরিশ্রম এবং সদূর প্রসারী পরিকল্পনার কারনে। স্যার ফজলে হাসান আবেদ মরে গেছেন কিন্তু উনার কর্মের কারনে আমাদের কাছে আজীবন বেচেঁ থাকবেন।

আলহাজ্ব মোঃ লুৎফুর রহমান, আহবায়ক বানিয়াচং উপজেলা বিএনপি-  স্যার ফজলে হাসান আবেদ আমাদের একজন অভিভাবক ছিলেন। উনার মৃত্যুতে আমরা বানিয়াচংবাসী গভীর শোকাহত। মৃত্যুর মাস খানেক আগে তিনি বানিয়াচং এসেছিলেন উনার জন্মস্থান কামালখানী গ্রামে। এটাই ছিল বানিয়াচং উনার শেষ আসা। এসময় একান্তে উনার সাথে আমার কথা বলার সুযোগ হয়। উনি যে একজন বড়মাপের মানুষ ছিলেন তা উনার কথার মাধ্যমেই প্রকাশ পেত। একদম সাধামাঠা জীবনে চলাফেরা করতেন, বানিয়াচংয়ের অসহায় হতদরিদ্র মানুষদের জন্য তিনি তৈরী করে গেছেন আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন, যার মাধ্যমে বানিয়াচঙ্গের হাজার হাজার অসহায় নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। বানিয়াচঙ্গের মতো রক্ষনশীল এলাকা থেকে নারীদের ঘরের বাইরে এনে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ আমাদের কাছে একজন আদর্শ হিসেবে আজীবন আমাদের স্মৃতির পাতায় বেঁচে থাকবেন।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৭:২৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com