শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শাল্লায় ফসল রক্ষা বাঁধে তদারকি জরুরী   

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০     49 ভিউ
শাল্লায় ফসল রক্ষা বাঁধে তদারকি জরুরী   
পি সি দাশ, শাল্লা ( সুনামগঞ্জ)  প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শাল্লার  ছোট-বড় সব হাওরেই এখন পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওর পাড়ে  ধান কাটা নিয়ে সবাই এখন ব্যস্ত। কিন্তু বোরো ফসলরক্ষা বাঁধগুলোতে নজরদারি খুবই কম । এরই মধ্যে বৃষ্টিতে একাধিক বাঁধে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় গত এক মাস ধরে হাওরের বাঁধে নজরদারি কমেছে বলে জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। কয়েকদিন ধরে নিয়মিত বৃষ্টি এবং আবহাওয়া অফিসের আগাম বন্যার আশঙ্কার পরও বাঁধে নজরদারি বাড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ কৃষকদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলায় বোরো জমি চাষাবাদ হয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। এর মধ্যে হাওরে চাষাবাদ হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ১০৫ হেক্টর। বাকি টুকু চাষাবাদ হয়েছে উঁচু জমিতে। শনিবার  পর্যন্ত হাওরে প্রায়  ৪৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। হাওরের ধান দ্রুত কাটার জন্য জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং মাইকিং করানো হচ্ছে।

উপজেলার হাওরের কয়েকটি বাঁধের কাজের মান খুবই খারাপ হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টিতে এরই মধ্যে বাঁধে ছোট ছোট ফাটল ধরেছে বলে জানিয়েছেন বাঁধের পাশের  লোকজন।

অনেক বাঁধের ফিনিশিং ও কলমী লাগানো হয়নি। সংশ্লিষ্টদের খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে বার বার বলা হচ্ছে  । বরাম হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের মধ্যে রয়েছে পাটাকাউরি বাঁধ। ভান্ডা বিল হওরের বিলপুরের নিকটের বাঁধ, নওয়াগাঁওয়ের পাশের বাঁধ, ছায়ার হাওরের ডুমরা গ্রামের পশ্চিম পাশের ২ টি   বাঁধ  ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ বিভাগ  নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাঁধের মাটির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টির অভাবে কোনো কোনো বাঁধের ঘাস মরে গিয়েছে। অনেক জায়গায় জিওটেক্সটাইল নির্ধারণ থাকায় ঘাস লাগানো হয়নি। অতিবৃষ্টিতে যেসব বাঁধের মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেগুলোতে পিআইসিরা কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজার ও বাঁধের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর শাখা কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অফিসের আগাম বন্যার সতর্কতা অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিল সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয় ও আসামে ২০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার ফলে সুরমা নদীর পানি ৪ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে আগাম বন্যার দেখা দিতে পারে। তাই হাওরের বোরো ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লা শাখা  কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত  সেন  বলেন, বোরো ফসলরক্ষা অনেক বাঁধে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। এগুলোর দ্রুত  মেরামত করা জরুরী। তিনি আরো বলেন হাওরের ফসল প্রায় অর্ধেক কাটা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম বন্যার পূর্বাভাস  রয়েছে তাই বাঁধে নজরধারী বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, চলতি বোরো মৌসুমের ফসলরক্ষায় শাল্লাসহ জেলার  ছোট-বড় ৪২টি হাওরে ৬৩৩ কিলোমিটার বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ করা হয়েছে। ৭৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এসব কাজ করেছে। বাঁধের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি টাকা। পিআইসির অনুকূলে ছাড় হয়েছে ৮০ কোটি টাকা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৫৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com