বৃহস্পতিবার ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শাল্লার সুনাম নষ্ট করেছে মার্কুলী  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২০ 112 ভিউ
শাল্লার সুনাম নষ্ট করেছে মার্কুলী  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 
পি সি দাশ, শাল্লা (সুনামগঞ্জ)  প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের শাল্লার মার্কলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাপনী পরিক্ষায় কেউ পাস করেনি। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় প্রত্যন্ত এলাকার এই বিদ্যালয়ের ৩১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে । সমাপনী পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এ ভরাডুবি ফলাফলে লজ্জায় ডুবিয়েছে শাল্লাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক বেণু দাসের সঙ্গে স্কুলের অন্য চার সহকারী শিক্ষকের চরম দ্বন্দ্ব চলছে। এই দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাঠদানে। যার ফলে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। অভিভাবকদের অসচেতনতার সুযোগে শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে কোন্দলে যুক্ত থাকায় শিক্ষার মান ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই স্কুলে বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২৯৮জন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে গত ৭ বছর ধরে স্কুল পরিচালনা কমিটি করা যাচ্ছে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি না থাকার ফলেই ফলাফলে এ অবস্থা  অভিযোগ অভিভাবকদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সহকারী শিক্ষকরা ইচ্ছেমতো স্কুলে যাতায়াত করেন। হাজিরা খাতায় জোর করে স্বাক্ষর দেন, প্রধান শিক্ষকের কথা কোন সহকারী শিক্ষক শুনেনি।
জানা গেছে, ৫ পদের এই স্কুলে সকল শিক্ষকই কর্মরত আছেন। স্কুলটিতে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বেণু দাস। তবে এর আগে থেকেই সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় দাস নামের একজন ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। এর আগে সঞ্জয় দাস জগন্নাথপুরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সঞ্জয় দাস ওই এলাকায় চাকরি করায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার নেতৃত্বে সহকারী শিক্ষকরা মাঝে-মধ্যে স্কুলে এসে আবার জোরপূর্বক স্বাক্ষর দিয়েই চলে যান এমন অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, গত সমাপনী পরীক্ষার আগে প্রধান শিক্ষক বেণু দাস হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওই সময় চার সহকারী শিক্ষকদের কেউ স্কুলে যাননি। যার ফলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কেউ ভালো করে প্রস্তুতি নিতে পারেনি। এ কারণেই সবাই অকৃতকার্য হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে সঞ্জয় দাসের নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষকের বিপরীতে গিয়ে সহকারী শিক্ষক সুচিত্রা বৈষ্ণব, সুপ্তমা রানী দাস ও জ্যোতিবালা দাস গ্রুপিং করে স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ স্কুলের এই সমস্যার কথা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বার বার অবগত করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
গত  ৭ বছর ধরে কমিটি ছাড়াই কার্যক্রম পরিচানার কারণে আজ এই ভরাডুবির ফলে  ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন গ্রামবাসী।
তারা অবিলম্বে সঞ্জয় দাসসহ অন্যান্য শিক্ষকদের বদলির দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামের অভিভাবক ওয়াজিদুর রহমান কওমি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি শিক্ষক সঞ্জয়  দাসের নেতৃত্বের কারণেই ধংশ হয়েছে। তিনি প্রধান শিক্ষকের কথা শুনেনা। সঞ্জয়ের প্রভাবে অন্য তিন শিক্ষক তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে সাহস পায়নি। সমাপনী পরীক্ষার ১৫-২০ দিন আগে বলতে গেলে স্কুল বন্ধই ছিল। কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষার পরামর্শ পায়নি, প্রস্তুতি নিতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা একাধিকবার শিক্ষা অফিসারকে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও তিনি সঞ্জয় দাসের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে  স্কুল ধ্বংসে হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক বেণু দাস বলেন, আমি মাত্র দেড় বছর আগে স্কুলে আসি। এসে দেখি স্কুলে কোন সিস্টেম নেই। সরকারি নিয়মে স্কুল চালাতে চাইলে সঞ্জয় দাসের নেতৃত্বে অন্য শিক্ষকরা একজোট হয়ে আমার বিরোধিতা করেন। তবে সমাপনী পরীক্ষার আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় অন্য চার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করেনি বলে জানান। তিনি বলেন, স্কুলটিকে বাঁচাতে হলে শিক্ষা অফিসকে কঠোর হতে হবে। আমি দোষী থাকলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দীন মোহাম্মদ বলেন, ফলাফল খারাপের জন্য সকল শিক্ষকের নামে শোকজ পাঠানো হচ্ছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষা অফিসের লোকজন সহকারী শিক্ষকদের পক্ষে নন বলে তিনি জানান।
Facebook Comments
advertisement

Posted ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com