বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথে আসামি ধরতে গিয়ে দুই র‌্যাব সদস্য লাঞ্চিত : মামলা আসামিসহ ৩টি বাড়ি ভাংচুর-লুটপাট

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০     101 ভিউ
বিশ্বনাথে আসামি ধরতে গিয়ে দুই র‌্যাব সদস্য লাঞ্চিত : মামলা আসামিসহ ৩টি বাড়ি ভাংচুর-লুটপাট

জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সাদা পোষাকে তুচ্ছ একটি মামলার আসামী ধরতে গিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথে দুই র‌্যাব সদস্যকে মারধর করে লাঞ্চিত করা হয়েছে। তবে, র‌্যাব সদস্যদের পরিচয় জানা না গেলেও তারা দু’জন সিলেট র‌্যাব-৯ এ কর্মরত বলে জানা গেছে।

ঈদের আগের দিন রবিবার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের পেছি খুরমা গ্রামের বাসিন্দা মারামারি মামলার আসামি ব্যবসায়ী হাজী বেলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্রধরে ওইদিন ব্যবসায়ী বেলাল মিয়ার বসতঘরসহ তার প্রতিবেশী আরও ৩টি বাড়ির ৪টি ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আর র‌্যাব-সদস্যদের ভাংচুরের দৃশ্য ক্যামেরাবন্ধি করায় বিশ্বনাথ ক্লাবের সদস্য ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি আব্দুস সালামকে মারধর করেছেন উপস্থিত র‌্যাব সদস্যরা।

এ ঘটনার পর থেকে পুরো পেছি খুরমা গ্রামটি এখন পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে র‌্যাব সদস্যদের উপর হামলা, মারধর ও লাঞ্চিত করার ঘটনায় পেছি খুরমা গ্রামের ৬৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দাযের করা হয়েছে। ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) বিকেলে র‌্যাব-৯’র এসআই প্রণব রায় বাদী হয়ে ওই গ্রামের ব্যবসায়ী হাজী বেলাল মিয়াকে (৪৫) প্রধান আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন, (মামলা নং১৫)। মামলায় ১৬জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পেছি খুরমা গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় দু’মাস আগে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চুৃরির ঘটনায় সালিশ বৈঠকে পেছি খুরমার ব্যবসায়ী হাজী বেলাল মিয়া ও তার প্রতিপক্ষ একই গ্রামের রফিক মিয়ার মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। চুরি হওয়া অটোরিকশা মালিক পক্ষে অবস্থান নেন হাজী বেলাল মিয়া আর চুর পক্ষে অবস্থান নেন প্রতিপক্ষ রফিক মিয়া। এনিয়ে গত ২০ মে বেলাল ও রফিক মিয়া পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর একদিন পর গত শুক্রবার (২২ মে) হাজী বেলাল মিয়াসহ ১৩জনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার প্রতিপক্ষ রফিক মিয়া, (মামলা নং ১৪)।

মামলার একদিন পর ঈদের আগেরদিন রোববার (২৪মে) সাদা পোষাকে দুই র‌্যাব সদস্য হাজী বেলাল মিয়াকে ধরতে তার বাড়িতে যান। এসময় গ্রামের বেশ’ কয়েকজনকে নিয়ে বেলাল মিয়া তার বাড়িতে গরু জবাই করছিলেন। সাদা পোষাকে হেলমেট পরা থাকায় তারা তাদেরকে প্রতিপেক্ষর সন্ত্রাসী মনে করে ধাওয়া করেন। এ সময় বেলাল মিয়ার বাড়ির পাশের খালে পড়ে র‌্যাব সদস্য একজনের অস্ত্র পানিতে ফেলে ওপারে গিয়ে ওয়ারলেস উচিয়ে আইনের লোক বলে গ্রামের অপর কয়েকজনকে বলেন।

এসময় গ্রামের জুনেদ মিয়া, আরিফ আলীসহ বেশ কয়েকজন তাদেরকে সহযোগীতা করেন। পরে আহত র‌্যাব সদস্য দু’জনের ফোন কলে ৭/৮টি গাড়িযোগে র‌্যাব-৯ এর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীর সহযোগীতায় খাল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেন। অপরদিকে সাদা পোষাকে হেলমেট পরে আরও ৪/৫জন বেলাল মিয়ার ঘরের আসবাবপত্র, ২টি মোটরসাইকে, ষ্টিলের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন ও মালাল লুটপাট করেন।

একই সময়ে বেলাল মিযার পাশের ঘর ও প্রতিবেশিদের ঘর ও আসববপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেন। ভাংচুরের দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করায় সাংবাদিক আব্দুস সালামকে মারধর করা হয়। এসময় তার মোবাইল ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন র‌্যাব সদস্যরা। পরে র‌্যাবের উর্ধতন এক কর্মকর্তা তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দিলেও ম্যামরি কার্ড রেখে দেন।

এব্যাপারে ব্যবসায়ী হাজী বেলাল মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম (৩৫) বলেন, তাদের ঘরসহ ৩বাড়ির আরও ৩টি ঘর ভাংচুর করা হয়। আর হেলমেট পরা ভাংচুরকারীরা তাদের স্টিল আলমিরা থেকে ২/৩ ভরি স্বর্ণ ও ৩ হাজার নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বেলাল মিয়ার পাশের বাড়ির লিলু মিয়ার স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৬০) বলেন, ঘরে ভাংচুরের পাশাপাশি তার ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়েগেছে হেলমেট পরা অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন।

সাংবাদিক আব্দুস সালাম এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন খালের পানিতে ভিজে গ্রামের লোকজন র‌্যাব সদস্যদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র খোঁজ করছেন। এসময় ছবি তুলতেই তাকে মারধর শুরু করেন এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেন র‌্যাব-সদস্যরা। এরপর গ্রামের মসজিদে নিয়ে ১০/১২জন র‌্যাব সদসদ্য তাকে ঘিরে রাখনে। ঘন্টাখানেক পর র‌্যাবের এক এএসপি তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন রিসেট দিয়ে ফিরিয়ে দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজ আলী এ প্রতিবেককে বলেন, বেলাল মিয়ার বিরুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ রফিক মিয়া থানায় মামলা দেওয়ার পর থকে হেলমেট পরে মহড়া দেওয়া হয়। এ বিষয়টি বেলাল আলী তাকে জানিয়েছিলেন। আর ঘটনারদিন সাদা-পোষাকে ও হেলমেট পরা থাকায় এ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। পরে র‌্যাব-কর্মকর্তাদেও উপস্থিতিতে বেলাল মিয়ার বাড়ির পাশের খাল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাবের লাঞ্চিত হওয়া দুই সদস্যকেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অলংকারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল এ প্রতিবেদককে বলেন, দুই র‌্যাব সদস্য আসামি ধরতে গিয়ে লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি জেনে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যারা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৩বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে র‌্যাব ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ভাংচুর ও লুটপাটকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

তবে, সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টি সটিক নয় বলে দাবি করেছেন সিলেট র‌্যাব-৯’র অধিনায়ক লে: কর্ণেল আবু মুসা মো: শরীফুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেককে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানতে ওইদিন র‌্যাবের দুই সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কিন্তু পারেন নি। জনৈক বেলাল মিয়ার নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা করেন গ্রামবাসী। তাই সরকারি কাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনারদিন ঘটনাস্থলে তিনি নিজে ছিলেন এবং আসামির বসত ঘর কিংবা অন্য কারো ঘর কিংবা আসবাববপত্র ভাংচুর ও লুটপাঠের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। আর ঘটনাস্থলে অস্ত্র ফেলা বা উদ্ধারের কোন ঘটনাও ওইদিন ঘটেনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৫১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com