মঙ্গলবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে বিয়ের ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করে সংসার ভাঙার চেষ্টা!

বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৯     222 ভিউ
নবীগঞ্জে বিয়ের ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করে সংসার ভাঙার চেষ্টা!

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ৭ বছর আগে বিয়ে করেছে বলে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করে প্রতারনার অভিযোগে শামীম মিয়া (২৮)কে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন-হাসান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাকে হবিগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। দন্ডাদেশপ্রাপ্ত শামীম মিয়া উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গুমগুমিয়া গ্রামের মৃত ছিদ্দিক মিয়ার পুত্র।

সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ১৫ তারিখ উপজেলার গুমগুমিয়া গ্রামের বাহাদুর আলীর কন্যা লুৎফা আক্তারের সাথে একই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আওলাদ মিয়ার পুত্র লন্ডন প্রবাসী গোলাম মোস্তফার বিয়ে হয়। লুৎফা আক্তারের অভিযোগ- বিয়ের পর তার স্বামী গোলাম মোস্তফা ফের চলে যান লন্ডনে। সুন্দরভাবেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু সুন্দর সংসার ভাঙতে মরিয়া হয়ে উঠে গুমগুমিয়া গ্রামের শামীম মিয়া। সে লুৎফা আক্তারের সাথে তার ছবি সংযুক্ত করে একটি ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করে। ২০১২ সালের ২৭ জুন তারিখ দিয়ে তৈরী করা এফিডেভিটে উল্লেখ করে- লুৎফার সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সর্ম্পক ছিল এবং ওই তারিখে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর সাব্যস্থ ক্রমে হবিগঞ্জ নোটারী পাবলিকের কার্য্যালয়ে উভয় হাজির হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে হয়। কিন্তু এসব কিছুই জানতো না লুৎফা। এদিকে সম্প্রতি শামীম মিয়া কথিত বিয়ের ওই এফিডেভিটের কপি এলাকার বিভিন্ন মানুষকে দেখায় এবং প্রচার করে লুৎফার সাথে ২০১২ সালে তার বিবাহ হয়েছে। কিন্তু এই প্রচারেই থেমে থাকেনি শামীম। প্রায় সপ্তাহকানেক পূর্বে সে লুৎফার স্বামী প্রবাসী গোলাম মোস্তফার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এই ভুয়া এফিডেভিটের কপি পাঠায় এবং শামীম দাবী করে লূৎফাকে সে ২০১২ সালে বিয়ে করেছে। এ ঘটনায় গত চলতি মাসের গত ২২ তারিখ নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে লুৎফা আক্তার। এরই প্রেক্ষিতে গত সোমবার রাতে নবীগঞ্জ থানার এস আই কাওসার আলমসহ একদল পুলিশ নবীগঞ্জ শহরতলীর নতুন বাজার মোড় থেকে শামীম মিয়াকে আটক করেন।

পরে তাকে মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্য্যালয়ে হাজির করা হলে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন-হাসান যাচাই বাচাই করে ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করে প্রতারণা করার দায়ে ধৃত শামীম মিয়াকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে দন্ডাদেশপ্রাপ্ত শামীমকে থানা পুলিশের মাধ্যমে গতকাল দুপুরে হবিগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন-হাসান।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com