মঙ্গলবার ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জামখলা হাওরের ঝুকিপূর্ণ শল্লাদাইড় বাধেঁর কাজের ধীরগতি, ৩হাজার ২শ হেক্টর বোর ফসল হুমকির মুখে

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 45 ভিউ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জামখলা হাওরের ঝুকিপূর্ণ শল্লাদাইড় বাধেঁর কাজের ধীরগতি, ৩হাজার ২শ হেক্টর বোর ফসল হুমকির মুখে

কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের জামখলা হাওরের ঝুকিপূর্ণ শল্লাদাইড় বাঁধের কাজের ধীরগতি প্রায় ৩হাজার ২শ হেক্টর বোরো ফসল হুমকির মুখে রয়েছে।

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামখলা হাওরের শল্লাদাইড় বাঁধের কাজে ধীরগতি ও নীতিমালা অনুযায়ী মূল ভাঙ্গায় মাটি ভরাট না হওয়ায় এবং শতভাগ কাজের মধ্যে নামমাত্র ২০/২৫ ভাগ কাজ হওয়ায় ঐ এলাকার, ধরমপুর, সলফ, মৌগাঁও, বাগেরকোনা, লালুপুর, ছয়হাড়া, কাবিলাখাই, আমরিয়া, বুড়োমপুর, পাইকাপন, আসামপুর গ্রামের প্রায় ৩হাজার ২শ হেক্টর বোরো ফসল হুমকির মুখে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস সুত্রে জানা যায়, পিআইসির মাধ্যমে এই শল্লাদাইড় বাঁধের কাজ পায় ধরমপুর গ্রামের রফিক আলী ও আবুল কালাম। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৪লাখ ৩৬হাজার ৪শত ৮৯টাকা। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়ার পর পিআইসির অজ্ঞতা ও খামখেয়ালীর কারণে এখনও পর্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ভাঙ্গায় নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা বর্হিভুত।

নীতিমালায় মূল ভাঙ্গার নিচের দিকে ৯০ ফুট তলা থাকার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ২০/২৫ ফুট। মাটি ফেলার ১ফুট পর পর দুরমুছ করার কথা থাকলেও কোন জায়গায় দুরমুছ করা হয়নি। মূল বাঁধের একেবারে কাছ থেকে মাটি তুলা হয়েছে। এ যেন রীতিমত কৃষকদের সোনার ফসল নিয়ে চিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

হাওরপাড়ের কৃষকদের সাথে আলাপ কালে জানা যায় বিগত ১৭,১৮,১৯ সালে এই ভাঙ্গা ভেঙ্গে পানি ঢুকে কৃষকের সোনার ফসল তলিয়ে গিয়েছিল পিআইসিদের খামখেয়ালীর কারণে। এ বছরও বিগত বছরের মত বাঁধের কাজে অনিয়ম হলে হাজার হাজার কৃষকের সোনালী ফসল পড়বে হুমকির মুখে। এই ঝুকিপূর্ণ বাঁধের কাজে খামখেয়ালীপনা ও ধীরগতি দেখে ক্ষোভে আর শঙ্খায় দিনরাত পার করছেন কৃষকরা।

সলফ গ্রামের আব্দুল গফফার বলেন, আমাদের এই হাওরের বাঁধের জন্য সরকার অধিক পরিমানের টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন কিন্তু বেরিবাঁধের কাজে পিআইসিরদের অবহেলায় যদি এই বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে তাহলে সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ কোন কাজে লাগবে না।

লালপুর গ্রামের আব্দুল মন্নান বলেন, আর কিছুদিন পরেই ঝড়-বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা রয়েছে সময়ের মধ্যে যদি এই বাঁধের কাজ করা না হয় তাহলে আমাদের কষ্টের সোনার ফসল রক্ষা করা যাবে কিনা তা নিয়ে আমরা হুমকির মুখে রয়েছি।

হাওর পারের অনেক কৃষক বলেন বিগত ৩বছর লাগাতার পিআইসিদের অবহেলার কারণে জামখলা হাওরে পানি ঢুকে কৃষকদের সোনার ফসল তলিয়ে গেছে। এ বছরও যদি সোনার ফসল নিয়ে খামখেয়ালী ও চিনিমিনি করা হয় এবং নীতিমালা অনুযায়ী কাজ না করা হয় তাহলে পিআইসির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তলা হবে।

এ ব্যাপারে পিআইসির সভাপতি রফিক আলী বলেন, মাটি বাঁধে কাটার কাজ চলতেছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সকল পিআইসিকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জেলার মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, আমি এই বাঁধ পরিদর্শণ করেছি এবং একদিনের সময় দিয়েছি। সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ না হলে পিআইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলাপ করেন কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৮:৫২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com