রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ার উত্তর চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে দু:শ্চিন্তা

জিয়াউল হক জিয়া, কুুলাউড়া (মৌলভীবাজার) থেকে   বুধবার, ০৯ জুন ২০২১ 21 ভিউ
কুলাউড়ার উত্তর চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে দু:শ্চিন্তা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন বেহাল চিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই এটা কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ভবন এমনিতেই ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ। করোনায় শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকায়, ২০১৬ সালের ভূমিকম্পে মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ভবনটি নিয়ে দু:চিন্তার শেষ নেই।

 

সে সময় এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলীসহ শিক্ষাবিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তবুও মিলেনি নতুন বা মেরামতের কোনো বরাদ্দ। এর মধ্যে ৫ বছর কেটে গেলেও কোন ভবন অনুমোদন কিংবা মেরামতের জন্যও বরাদ্ধ দেয়া হয়নি। করোনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় আরো ক্ষতি হয়েছে ভবনটির। গত ৫ বছর থেকে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছিলো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এমতাবস্থায় করোনা কাল পরে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা দু:সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

 

সরেজমিন উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক দেবী প্রসাদ ভট্রাচার্য্য জানান, ১৯৮০ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ২শ। ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন পাঠদানের জন্য। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৪ সালে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু সে সময় ঠিকাদারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভবনটির কাজ নিন্মমানের হওয়ার কারণে তাতে ফাটল দেখা দেয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ভূমিকম্পে বিদ্যালয় ভবনটিতে একাধিক ফাটল দেখা দেয়। খসে পড়ছে পলেস্তার।

 

কুলাউড়ার উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল রাকিব ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মখলুফা, নাজমিন বিগম, ইয়াছমিন বেগম, লাকী রানী চন্দ, হাসি রানী চন্দ, সুমিত্রা রানী, মঞ্জু রানী নাথ, কল্পনা রানী, সাজনা বেগম, রায়না বেগম, লেচু বেগম, অর্পণা রানী, সানজিদা আক্তার জানান, শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন। যদি পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে পড়ে যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে। যদি পলেস্তার খসে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাথায়। নেই স্যানিটেশন ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীরা আশপাশের মানুষের বাড়িতে গিয়ে সারতে হয় প্রাকৃতিক কর্ম। করোনার কারণে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই ভবনে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করানোর মত পরিবেশ নেই।

 

শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, করোনার এই বন্ধকালীন সময়ের মধ্যে একটি ভবন নির্মিত হলে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। নয়তো বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুপযোগি হয়ে পড়বে। বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য বীরেন্দ্র দাস জানান, বারবার শিক্ষা বিভাগ এবং এমপির কাছে একটি ভবনের দাবি জানালেও কোন সুরাহা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতির কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীও কমছে। একটি ভবনের দাবি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক সবার।

 

এব্যপারে কুলাউড়া উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. মামুনুর রহমান জানান, অধিদফতরের তালিকায় এবং স্থানীয় এমপির চাহিদার তালিকায় এক নম্বরে উত্তর চুনঘর স্কুলের নাম বারবার দেয়া হচ্ছে। এরপরে চাহিদা দেয়া বিদ্যালয়গুলোতে ভবন নির্মাণ হলেও রহস্যময় কারণে বিদ্যালয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৫:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৯ জুন ২০২১

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com