শুক্রবার ১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তার পার্শ্বে অবৈধভাবে পাথর ভাঙ্গছে ক্রাশার মিল : জনচলাচলে বাড়ছে দুর্ভোগ

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০ 111 ভিউ
কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তার পার্শ্বে অবৈধভাবে পাথর ভাঙ্গছে ক্রাশার মিল : জনচলাচলে বাড়ছে দুর্ভোগ

আলিম উদ্দিন, কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির কানাইঘাট- সুরইঘাট রাস্তার পার্শ্বে অবৈধ ভাবে পাথর ভাঙ্গছে কয়েকটি ক্রাশার মিল। এতে সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্প এবং সুরইঘাট বাজার এলাকার আশপাশ জুড়ে ধুলোবালি ও শব্দ দূষনের কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির সম্মূখীন।

সীমান্ত এলাকার জনসাধারণের যানবাহনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তা। এতে উক্ত রাস্তার পার্শ্বে প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী উপজেলার সাউদগ্রাম গ্রামের ছয়ফুল আলম প্রথমে একটি ক্রাশার মিল স্থাপন করে সেখানে পাথর ভাঙ্গা শুরু করেন। এতে প্রতিদিন ছয়ফুল আলমের স্টোন ক্রাশার ডাম্পিং থেকে রাস্তায় বড় বড় ট্রাক ভর্তি করে পাথর লোড করা হয়। যে কারণে কানাইঘাট-সুরইঘাট রাস্তা দিয়ে অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক দূর্ভোগের সৃষ্ঠি হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, সাউদগ্রামের ছয়ফুল আলম প্রতিদিন লোভাছড়া কোয়ারী থেকে বড় বড় ট্রাক, ট্রলি ও ট্রাক্টর দিয়ে পাথর এনে কানাইঘাট সুরইঘাট রাস্তার পার্শ্বে পাথর মওজুদ করে তার ক্রাশার মিল থেকে পাথর ভেঙ্গে বড় বড় ট্রাক, ট্রলি ও ট্রাক্টর যোগে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে। এতে অতিরিক্ত পাথর নিয়ে ট্রাক ও ট্রলি চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পাথর ভাঙ্গার কাজ না করে লোহা দিয়ে মেশিন তৈরি করে ডিজেল চালিত ভাবে পাথর ভাঙ্গছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া উল্লিখিত স্থানে প্রভাবশালী ছয়ফুলের ক্রাশার মিল দেখে স্থানীয় আরো কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী এখানে আরো কয়েকটি ক্রাশার মিল স্থাপন করে পাথর ভাঙ্গছেন। এতে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দুষিত হচ্ছে। এলাকার লোকজন ধুলাবালির কারণে নানা রোগে ভোগান্তিতে পড়ছেন। ধুলাবালি ও শব্দের কারণে বিশেষ করে শিশু কিশোর’রা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উল্লিখিত রাস্তার পার্শ্বে সাউদ গ্রামের ছয়ফুল আলমের ক্রাশার মিল ছাড়াও কালীনগরের হোসন আহমদ, সিলেটের দাসপাড়ার আমীর কামাল, ছাতকের উস্তার আলী, উত্তর লক্ষীপ্রসাদের কামাল মেম্বার ও সাতপারী গ্রামের কালা মঈনুলের একটি করে ক্রাশার মিল রয়েছে।

এ সময় ছয়ফুল আলম বলেন, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে অভিযান পরিচালনা করে তার উপর ২০ হাজার টাকা ও কালা মঈনুলের উপর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের পর কয়েকদিন তাদের ক্রাশার মেশিনগুলো বন্ধ ছিল। বর্তমানে তারা সবদিক ম্যানেজ করে আবার নতুন ভাবে ক্রাশার মিলগুলো দিয়ে পাথর ভাঙ্গছেন।

এছাড়া কানাইঘাটের খেয়াঘাট এলাকায় ক্রাশার মেশিনের পরিধি দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাছাড়া উপজেলার মুলাগুল এলাকায় লোভাছড়া নদীর এপারে অপারে গড়ে উঠেছে আরো বেশ কিছু ক্রাশার মিল।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বারিউল করিম খান বলেন, অবৈধ ভাবে যারা ক্রাশার মিল দিয়ে পাথর ভাঙ্গছে। তাদের উপর বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সুরইঘাট এলাকার কয়েকটি ক্রাশার মিলে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ ক্রাশার মিলে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments
advertisement

Posted ২:২৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com