রবিবার ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ঈদের আনন্দে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকা

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০     123 ভিউ
ঈদের আনন্দে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকা

আক্তার হোসাইন, মাধবপুর প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকা এখন দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ব্যতিক্রমধর্মী এই স্মৃতিসৌধ দেখার জন্য।

তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজারের বাংলো সংলগ্ন পূর্বপাশে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ঐতিহাসিক স্মৃতি ধারণ করে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই স্মৃতিসৌধ। পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক কিংবা তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন হতে প্রায় দুই কিলোমিটার অভ্যন্তরে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

স্মৃতিসৌধের পূর্বপাশে রয়েছে লেক এবং পাশেই অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সুশোভিত চা বাগান। রাইফেলের বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধের পাদদেশের ফলকে উত্কীর্ণ আছে “২নং, ৩নং, ৪নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন মেজর জেনারেল (অবঃ) কে.এম. শফিউল্লাহ। প্রবেশপথের দুই পাশের দুই পিলারে কবি শামছুর রহমানের “স্বাধীনতা তুমি… কবিতার পংক্তিমালা লেখা রয়েছে। স্মৃতিসৌধের দক্ষিণপাশে দুটি বোর্ডে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মাধবপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এবং অপর একটি বোর্ডে তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য লেখা রয়েছে।

জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ তার সঙ্গী ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদেরকে নিয়ে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ঘাঁটি স্থাপন করেন। মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর জিয়াসহ আরো সেনাকর্মকর্তা এখানে একত্রিত হন। ১৯৭১ সালের ৪ ঠা এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম সেনা বৈঠকে জেনারেল এম.এ.জি ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক এবং দেশকে ৪টি সামরিক অঞ্চলে বিভক্ত করে সেক্টর কমান্ডার নির্বাচন করা হয়। ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেনা বৈঠকে ৪টির স্থলে দেশকে ৬টি অঞ্চলে এবং ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। তেলিয়াপাড়া বৈঠকে দেশে রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের কর্মপন্থা নির্ধারণ, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সদর দফতর হিসেবে এখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ওই সময়ে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা ও সেনানায়কদের পদচারণায় ছিল মুখরিত। ১৯৭১ সালের ১৯ মে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের কারণে এখানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার সরিয়ে নেয়া হয়। স্মৃতিসৌধ এলাকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। নিয়মিত দর্শনার্থী ছাড়াও অনেকে পিকনিক স্পট হিসেবে এই এলাকাকে বেছে নেয়ায় প্রতিদিনই স্মৃতিসৌধ এলাকা নানা বয়সের মানুষের ভিড়ে থাকে মুখরিত।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০

Sylheter Janapad |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ লাল রায় সুমন
প্রধান কার্যালয়
আখরা মার্কেট (২য় তলা) হবিগঞ্জ রোড, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
ফোন
+88 01618 320 606
+88 01719 149 849
Email
sjanapad@gmail.com